মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ক্ষমতার জন্য বিএনপি দেশের স্বাধীনতা বিকিয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না: ওবায়দুল কাদের জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার আহবান প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ॥ বিএনপির রাজনীতি রক্ত-লাশের : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী শত বছর পর বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সকল সেবা এক জায়গা থেকে নিশ্চিত করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী জনগণের ভোগান্তি লাঘবে সম্পূর্ণ ভূমি ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী কোভিড-১৯ এর ২য় ডোজ গণটিকা দান কর্মসূচি শুরু আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে : শিক্ষামন্ত্রী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য আরও ২শ’ কোটি টাকা প্রণোদনা ঋণ দেয়া হচ্ছে পঞ্জশিরে জোর লড়াই ॥ সরকার গঠনের প্রস্তুত তালেবান
অগ্নিঝরা মার্চ

অগ্নিঝরা মার্চ

১৯৭১ সালের মার্চ মাস ছিল ঘটনা বহুল একটি মাস বাঙালী জাতির জীবনে। মাতৃভূমি বাংলার স্বধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হচ্ছিল। ৬-দফা প্রস্তাবের মধ্য দিয়েই স্বধীনতা ঘোষনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

১৯৫২ সালে আমরা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছি। ‘৫৪ সালের নির্বাচনে জয় লাভ করার পরও ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি । ‘৫৮সালে দেশে সামরিক শাসন জারি করে আইয়ুব খান আমাদের গোলাম করে রাখল। ‘৬৬ সালে ৬- দফা দেয়া হলো । ‘৬৯ এর গণ-আন্দোলনের মুখে আইয়ুব খানের পতনের পর ইয়াহিয়া খান এলেন। ‘৭০সালের ৭- ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয় । ইয়াহিয়া খানের সাথে আলোচনা হলো ১৫ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকার অনুরোধ করলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধু মেজরিটি পার্টির নেতা হলে ও ইয়াহিয়া খান উনার কথা শুনলেন না।ভুট্টো সাহেবের কথায় ইয়াহিয়া খান ৩-রা মার্চ অধিবেশন ডাকলেন। ‘৭১ এর ২১শে ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শহীদ মিনারে পুস্পাজ্ঞলি অর্পণ করে শপথ বাণী উচ্চারণ করে বলেন : “ বাঙালীকে পায়ের নীচে দাবিয়ে রাখার ক্ষমতা কারো নাই”। ১লা মার্চ হঠাৎ এক ভাষণে ৩-রা মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বন্ধ করে দিলেন । আর ঐ দিন অর্থাৎ ১-লা মার্চ দুপুরের পর থেকে এক নতুন অধ্যায়ের সুচনা হয় পূর্ব বঙ্গ তথা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ।

৩-রা মার্চ পল্টনে ছাত্রলীগ আয়োজিত জনসভায় বঙ্গ বন্ধুর উপস্হিতিতে “ আমার সোনার বাংলা” সংগীত সহ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলেন । এরই ধারাবাহিকতায় আসে ৭-ই মার্চ।
বঙালীর জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন ১৯৭১ এর ৭-ই মার্চ ।এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) বাংলাদেশের মানুষকে স্বধীনতা সংগ্রামের উদাত্ত আহ্বান জানান ।

৮- ই মার্চ ১৯৭১ , থেকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে প্রতিটি গৃহে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয় । প্রতিটি গ্রামে ও শহরে সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয় । এভাবেই এলো ২৫- শে মার্চ কালো রাত। এ রাতেই রাত ১২:০০ টার পর অর্থাৎ ২৬-যে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলার অবিসংবাদিত প্রাণ প্রিয় মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। তিনি বলেন : “ আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র “। সর্বকালের সেরা বাঙালী বাংলার অবিসন্বাদিতরুপে নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সারা দেয় বাংলার আপামর জনগণ। ‘৭১ এর এই আন্দোলন ছিল বাংলার গণমানুষের আন্দোলন।

মুর্শিদা ভূঁইয়া মিরা
সাবেক শিক্ষিকা, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী স্কুল এন্ড কলেজ
সদস্য – আহবায়ক কমিটি, অপরাজেয় বাংলা
 

 

খবরটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved © 2020 onusondhan24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!