মাত্র ৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু হয়েছিল কুহেলী চাকমার ব্যবসায়িক যাত্রা। খাগড়াছড়িতে বসে অনলাইনে পোশাকের ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। শুরুর দিকে পুঁজির স্বল্পতার পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতাও তাঁর পথচলাকে কঠিন করে তুলেছিল। এর ওপর নতুন উদ্যোগ হিসেবে বাজারে নিজের জায়গা তৈরি করাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এসব বাধা কুহেলীকে দমাতে পারেনি।
নিজের পরিশ্রম আর দৃঢ় আত্মবিশ্বাসকে সম্বল করে তিনি এগিয়ে যেতে থাকেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম দেন ‘হাদি পিনন’। প্রথমদিকে অনলাইনে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ধীরে ধীরে ক্রেতাদের কাছে পরিচিতি পেতে শুরু করে। ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দ বিশ্লেষণ করে তিনি নিয়মিত পোশাকের ধরন ও মানে পরিবর্তন আনেন, যা তাঁর ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে ও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একপর্যায়ে অনলাইন কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি নিজের একটি শোরুমও চালু করেন।
ব্যবসা সম্প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুহেলীর কাজের পরিধিও বাড়তে থাকে। বর্তমানে ‘হাদি পিনন’-এ প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার পোশাক বিক্রি হয়, যেখান থেকে গড়ে প্রায় ৬০ হাজার টাকা লাভ থাকে। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে তাঁর সঙ্গে আরও দুজন কর্মী কাজ করছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও অবদান রাখছে।
কুহেলীর এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, হাতে বিপুল পরিমাণ পুঁজি না থাকলেও শুরু করার সাহস ও দৃঢ় প্রত্যয় থাকলে সাফল্যের পথ তৈরি করা সম্ভব। পাহাড়ি এলাকার দূরত্ব, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কিংবা ব্যবসায়িক নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নিজের মতো করে পথ খুঁজে নিয়েছেন তিনি।
কুহেলী চাকমার এই সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প আজ পাহাড়ি অঞ্চলের অন্যান্য নারীদেরও উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। সীমিত সম্পদ নিয়েও যে বড় কিছু অর্জন সম্ভব, কুহেলীর গল্প তারই একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত।
ত/জু






