একজন দক্ষ বাংলাদেশি ওয়েল্ডারের হয়তো পূর্ণাঙ্গ যোগ্যতা সনদ রয়েছে, কিন্তু ইতালির একজন নিয়োগকর্তা কি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারবেন সেই যোগ্যতার প্রকৃত অর্থ কী? ঠিক এই ব্যবধানই ঘোচাতে কাজ করছে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (OEP)।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ প্রকল্পের সহায়তায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশের এই জাতীয় ডিজিটাল ব্যবস্থায় এখন যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তাদের কথা মাথায় রেখে তৈরি শ্রমিক প্রোফাইল। এই উদ্যোগের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
শ্রমিকদের যোগ্যতা এখন ইউরোপীয় কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক (EQF)-এর সমতুল্য মান অনুযায়ী উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ইতালি করিডোরের ক্ষেত্রে, প্রোফাইলগুলোতে দেখানো হচ্ছে শ্রমিকরা ইতালির পেশাগত মানদণ্ড অনুযায়ী কী করতে সক্ষম।
নিয়োগকর্তারা এখন অপরিচিত যোগ্যতা ব্যবস্থা বোঝার ঝামেলা ছাড়াই শ্রমিকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা সরাসরি যাচাই করতে পারছেন।
এই কার্যক্রম শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) একইসঙ্গে সেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করছে, যা এসব প্রোফাইলকে নির্ভুল, সম্পূর্ণ ও কার্যকর রাখবে।
২০২৬ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ১০টি পার্টনার টিভেট ইনস্টিটিউটের ২১ জন কর্মীকে উন্নত ওইপি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে বিএমইটি-এর অধীনস্থ টিটিসি, ডিটিই-এর অধীনস্থ ইনস্টিটিউট এবং বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহ। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই কর্মীরা এখন শ্রমিক নিবন্ধন, প্রোফাইল তৈরি, প্রশিক্ষণ ব্যাচ পরিচালনা এবং মূল্যায়নের ফলাফল ও দক্ষতার অবস্থা রেকর্ড করতে সক্ষম।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশি দক্ষতাকে ইউরোপের নিয়োগকর্তাদের কাছে আরও দৃশ্যমান, বোধগম্য ও তুলনাযোগ্য করে তোলা।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ-এর অর্থায়নে পরিচালিত এই ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দক্ষতা ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিষ্ঠানসমূহের সহযোগিতায়।
ত/জু






