বয়স যে নতুন কিছু শেখার পথে বাধা নয়, তা আবার প্রমাণ করলেন মন্টেনিগ্রোর একদল নারী। দেশটির বেসরকারি সংস্থা বিসিক্লো.মি গত তিন বছর ধরে বিশেষ এক প্রকল্পের মাধ্যমে সাইকেল-স্কুল চালাচ্ছে। যেখানে মূল লক্ষ্য নারীদের নিরাপদে ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সাইকেল চালাতে শেখানো।
নিকশিচের বিচারক স্লাজানা পোপোভিচ পাহাড়ে চড়েন, হাফ-ম্যারাথন দৌড়ান, এমনকি এবারের গ্রীষ্মে দুটি ৫,০০০ মিটারের বেশি উঁচু শৃঙ্গও জয় করেছেন—অথচ সাইকেল চালানো শিখেছেন সম্প্রতিই, বিসিক্লো.মি’র এই প্রশিক্ষণে। তিনি বলেন, প্রাপ্তবয়সে নতুন কিছু শেখা কঠিন, কারণ বড়দের মধ্যে ভয় ও আঘাতের আশঙ্কা কাজ করে। তবে প্রশিক্ষকদের সহায়তায় সব অংশগ্রহণকারীই শেষ পর্যন্ত শিখে যান।
সংস্থার প্রশিক্ষক দেয়ান তফচেভিচ জানান, শুরুতে লক্ষ্য ছিল নারীদের সাইকেল ব্যবহারের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করা। পরে পুরুষদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হলেও আগ্রহ বেশি নারীদের মধ্যেই, কারণ ধারণা করা হয় প্রায় ৩০ শতাংশ নারী সাইকেল চালাতে জানেন না। হাইনরিশ ব্যোল ফাউন্ডেশনের সহায়তায় সবশেষ ব্যাচে ১২ জন নারী তিন দিনের এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন, যেখানে ট্রাফিক নিয়ম, নিরাপদ সড়ক-আচরণ ও সাইকেলের প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণ শেখানো হয়।
তফচেভিচের মতে, নারীরা সাইকেল কম ব্যবহার করেন মূলত নিরাপত্তাহীনতা, দুর্বল অবকাঠামো ও আগ্রাসী ট্রাফিকের কারণে—সক্ষমতার অভাবে নয়। রাজধানী পদগোরিৎসায় বিসিক্লো.মি’র ২০২৫ সালের জরিপ বলছে, নিয়মিত সাইকেল আরোহীদের মধ্যে নারী ৪১.৮ শতাংশ, পুরুষ ৫৮.২ শতাংশ—যা একটি স্পষ্ট লৈঙ্গিক ব্যবধান নির্দেশ করে।
সংস্থাটি বছরের পর বছর ধরে “ক্রিটিক্যাল মাস” নামে সাইকেল র্যালিও আয়োজন করছে, তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়—সাইকেল-পথ এখনো বিচ্ছিন্ন, রক্ষণাবেক্ষণহীন এবং অবকাঠামোকে এখনো পরিবহন ব্যবস্থার মূল অংশ হিসেবে দেখা হয় না বলে জানান তফচেভিচ। তিনি বলেন, নিরাপদ ও সংযুক্ত একটি সাইকেল-নেটওয়ার্ক গড়ে না তুললে যানজট, দূষণ ও সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত সমাধান সম্ভব নয়।
আগ্রহীরা বিসিক্লো.মি’র চ্যানেলের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণে নিবন্ধন করতে পারবেন।






