সরকার, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সমন্বয়ে “বাংলাদেশে যৌথ দরকষাকষির হালচাল” শীর্ষক চূড়ান্ত গবেষণা প্রতিবেদন এবং ২০২৬-২০৩১ মেয়াদি যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে গবেষক ড. জাকির হোসেন জানান, দেশে ট্রেড ইউনিয়নের ঘনত্ব মাত্র ১০ শতাংশ, আর যৌথ দরকষাকষির আওতা মাত্র ১.৫ শতাংশ। ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ১৫৭টি চুক্তি (৮৭টি সিবিএ এবং ৭০টি সমঝোতা স্মারক) চিহ্নিত হলেও এর মধ্যে বর্তমানে মাত্র ২৬টি সক্রিয় রয়েছে। গবেষণায় বলা হয়, যৌথ দরকষাকষির ক্ষেত্রে আইনি কাঠামোর সাম্প্রতিক উন্নয়নের পাশাপাশি আইনি সম্মতি নিশ্চিতকরণ, তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির জরুরি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ভবিষ্যৎ পথরেখা তুলে ধরে অধ্যাপক প্রফেসর মোস্তাফিজ আহমেদ উপস্থাপন করেন যৌথ কৌশলগত বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩১)। এই ত্রিপক্ষীয় রোডম্যাপে সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরল বিশ্বাসে দরকষাকষি, সিবিএর মান উন্নয়ন এবং পর্যায়ক্রমিক পাইলট বাস্তবায়নের মাধ্যমে খাতভিত্তিক যৌথ দরকষাকষি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের (এমওএলই) সচিব জনাব মো. আব্দুর রহমান তরফদার; বিইএফের জনাব ফারুক আহমেদ; এনসিসিডব্লিউইর জনাব মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ; এমওএলই শ্রম শাখার অতিরিক্ত সচিব জনাব আব্দুর রহিম খান এবং আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব ম্যাক্স টুনন সহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। তারা বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষ্ঠু সামাজিক সংলাপের মাধ্যমে শোভন কাজ, শিল্প শান্তি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, আইএলওর উদ্যোগে শুরু হওয়া এবং সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি (এসআরএস) কর্তৃক বাস্তবায়িত এই মাসব্যাপী কার্যক্রমটি অর্থায়ন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের “টিম ইউরোপ ইনিশিয়েটিভ অন ডিসেন্ট ওয়ার্ক ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড কানাডা”। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকার, মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মতামত সংগ্রহের মধ্য দিয়ে এই গবেষণা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়।
ত/জু






