কক্সবাজারে গ্লোবালগ্যাপ বিষয়ে চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

গত ১১-১৪ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের হর্টিকালচার সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্লোবাল গ্যাপ বিষয়ে একটি ব্যবহারিক প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বা টিওটি ট্রেনিং প্রোগ্রাম।

আয়োজনে ছিল এফএও ও কক্সবাজার ফুড সিকিউরিটি সেক্টর। প্রশিক্ষণে অংশ নেন স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার ২৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তা। যাদের অধিকাংশই কৃষিবিদ এবং যাদের কর্মঅভিজ্ঞতা দশ থেকে ত্রিশ বছরের বেশি। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কৃষি ও মৎস্যচাষ সমন্বয়কারী শামীম হাসান খানসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

সকাল নয়টা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত একটানা চার দিন ধরে চলা এই প্রশিক্ষণ মোট প্রায় ৩৫ ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত হয়। যার পুরোটাই একক ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে পরিচালনা করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং গ্লোবালগ্যাপের নিবন্ধিত প্রশিক্ষক আবু নোমান ফারুক। প্রশিক্ষণে লেকচার, মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা, একক ও দলগত কর্মশালা, ব্রেইনস্টর্মিং, ভিডিও প্রদর্শন, মাইন্ড ম্যাপিং, প্রাক-পরবর্তী পরীক্ষা এবং প্রতিক্রিয়া গ্রহণসহ নানা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

কোর্সে অন্তর্ভুক্ত ছিল গ্লোবালজিএপি জেনারেল রেগুলেশনস (ভার্সন ৬), আইএফএ ভি৬ স্মার্ট প্রিন্সিপালস অ্যান্ড ক্রাইটেরিয়া, ঝুঁকি নিরূপণ ও ব্যবস্থাপনা, গুণমান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং অভ্যন্তরীণ অডিটের মতো বিষয়। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের খামারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, নথিপত্র সংরক্ষণ, পণ্যের উৎস ও গতিবিধি শনাক্তকরণ এবং গুণমান যাচাইয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়। যাতে ক্ষুদ্রচাষি, বাড়ির আঙিনায় বাগান করা মানুষ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদকদের আরও ধারাবাহিক ও নির্ভরযোগ্য সহায়তা দেওয়া যায়। সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী সকলকে গ্লোবালগ্যাপের আন্তর্জাতিক সনদ প্রদান করা হয়েছে।

এটি একটি প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হওয়ায় অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের অধস্তন কর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন। প্রশিক্ষণ শুরুর আগে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা ছিল, ফসলের উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে হয়তো গতানুগতিক কিছু আলোচনা হবে। কিন্তু প্রশিক্ষণ চলাকালে তারা এর ভিন্নধর্মী ও ব্যবহারিক দিক উপলব্ধি করেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও আগ্রহভরে অংশ নেন।

অধ্যাপক নোমান ফারুক তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, এটি তার একক ফ্যাসিলিটেশনে পরিচালিত সেরা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলোর একটি। শেষদিন অংশগ্রহণকারীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় তার চার দিনের সব পরিশ্রম সার্থকতা খুঁজে পান।

কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ খাদ্য, টেকসই কৃষি এবং শক্তিশালী কৃষি সেবা নিশ্চিত করার পথে এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।