দীর্ঘদিন ধরে কীটনাশকমুক্ত নিরাপদ শাক-সবজি চাষ করে আসছেন চট্টগ্রামের কৃষক মো. লোকমান গণি। তার মতো অনেক কৃষকই এই চাষাবাদে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল সংরক্ষণের অভাব। প্রয়োজনের অতিরিক্ত উৎপাদন হলে তা সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রচুর শাক-সবজি পচে নষ্ট হয়ে যেত, ফলে ভালো ফলন সত্ত্বেও কৃষকের পরিশ্রম ও সম্ভাব্য আয় দুটোই মাটি হয়ে যেত।
নিরাপদ সবজি চাষের পাশাপাশি ভার্মি কম্পোস্ট সার ও বায়োগ্যাস নিয়েও কাজ করেন লোকমান গণি। নিজের এই অভিজ্ঞতা থেকে সংরক্ষণের সমস্যাটি তিনি তুলে ধরেন ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির কর্মীদের কাছে। এরপরই শুরু হয় সমাধানের অনুসন্ধান—বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে একটি কনটেইনার কেনা হয় এবং ধাপে ধাপে তা রূপান্তরিত করা হয় শাক-সবজি সংরক্ষণের উপযোগী একটি ছোট আকারের হিমাগারে।
এলাকার প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন কৃষকের জন্য এই হিমাগার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা উৎপাদিত ফসল নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারেন। এর মাধ্যমে শাক-সবজি তুলনামূলক বেশি সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, কমে আসবে পচন ও অপচয়, এবং কৃষকরা পণ্য বিক্রির জন্য বাড়তি সময় পাবেন।
একটি বাস্তব সমস্যা থেকে উঠে আসা এই ছোট উদ্যোগ ইতিমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কৃষকের পরিশ্রম বাঁচানোর পাশাপাশি উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য ধরে রাখার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ত/জু






