দেশে ৭০% নারী সঙ্গীর দ্বারা সহিংসতার শিকার, অধিকাংশই নীরব। দেশে নারী নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী তাদের জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে তাদের সঙ্গীর (পার্টনার) দ্বারা শারীরিক, মানসিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ নারীই তাদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা কাউকে জানাতে পারেননি।
সমাজকর্মী ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, পারিবারিক সহিংসতা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বিষয় নয়, বরং এটি একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নামান্তর। তাদের মতে, ভুক্তভোগীদের নীরবতা কোনো সমাধান দিতে পারে না; বরং এই নীরবতা সহিংসতাকে আরও দীর্ঘায়িত ও স্বাভাবিকীকরণ (নরমালাইজ) করতে সহায়ক হয়।
এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, নারীদের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ আশ্রয়স্থল, যেখানে তারা ভয়হীনভাবে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারবেন। পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, যাতে নারীরা তাদের কণ্ঠস্বর জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারেন এবং বিদ্যমান আইনের কঠোর ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা যায়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শুধু আইন প্রণয়ন বা জরিপ পরিচালনা যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন সমাজের সব স্তরে এই বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি, ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে তোলা এবং নির্যাতনকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা। তারা ন্যায়বিচার ও নারীর মর্যাদা রক্ষার পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ত/জু






