জলবায়ু সহনশীলতায় পিকেএসএফ-এর নতুন উদ্যোগ

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সম্প্রতি শুরু হওয়া ‘গ্রোথ ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড নিউট্রিশন (গ্রিন)’ প্রকল্পের চার দিনব্যাপী স্টার্ট-আপ মিশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অভিন্ন ধারণা তৈরি এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ এই মিশনের অন্যতম লক্ষ্য।

পিকেএসএফ ভবন-১-এ অনুষ্ঠিত এই মিশনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। এতে উপস্থিত ছিলেন ইফাদের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ভ্যালেন্টাইন আচাঞ্চো, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্মসচিব জেসমিন পারভীন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ আমিন শরীফ এবং গ্রিন প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া পিকেএসএফ ও গ্রিন প্রকল্পের কর্মকর্তা এবং ইফাদের অন্যান্য প্রতিনিধিগণ এতে অংশ নেন।

ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ইফাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের মাধ্যমে পিকেএসএফ বেশ কয়েকটি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে সম্প্রতি সমাপ্ত রুরাল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট (আরএমটিপি) উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই অভিজ্ঞতা ও অংশীদারত্বের ধারাবাহিকতায় গ্রিন প্রকল্পও সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী ও যুব উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা, পুষ্টি সংবেদনশীল ভ্যালুচেইন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা উন্নয়নে গ্রিন প্রকল্পের আওতায় কাজ করা হবে।

ড. ভ্যালেন্টাইন আচাঞ্চো বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, উদ্যোক্তা, নারী ও যুবদের জন্য টেকসই সুযোগ তৈরির লক্ষ্য সামনে রেখে গ্রিন প্রকল্পটি সুচিন্তিতভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে মানুষের জীবনে প্রকল্পটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারছে কি-না, তার ভিত্তিতেই এর সাফল্য বিবেচিত হবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্মসচিব জেসমিন পারভীন সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন অগ্রাধিকার তুলে ধরে বলেন, গ্রিন প্রকল্পের কার্যক্রম এসব অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ আমিন শরীফ প্রকল্প বাস্তবায়নে পিকেএসএফ-এর সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে গ্রিন প্রকল্পটিও অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. হাবিবুর রহমান গ্রিন প্রকল্পের ওপর একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন।

২০২৬ সালের ৩০ জুলাই যাত্রা শুরু করা গ্রিন প্রকল্পটি ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত মোট ব্যয় ২১১.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মাধ্যমে ২ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে। নারী, যুব এবং জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণ জনগোষ্ঠীকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবা এবং টেকসই ক্ষুদ্র উদ্যোগের প্রসারে কাজ করা হবে।

ত/জু