বন্যা অল্প সময়ের মধ্যেই একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনকে বদলে দিতে পারে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, নিরাপদ পানির সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং শিশু ও নারীদের সুরক্ষা—সবকিছুই তখন নতুন করে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবে সঠিক তথ্য, সচেতনতা এবং কিছু সহজ নিরাপদ অভ্যাস দুর্যোগের পর পরিবার ও কমিউনিটিকে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করতে পারে।
এই লক্ষ্যেই “মাল্টিপারপাস ক্যাশ অ্যাসিস্ট্যান্স টু দ্য মোস্ট ভালনারেবল ফ্লাড-অ্যাফেক্টেড পপুলেশন ইন চকরিয়া, কক্সবাজার, বাংলাদেশ (BGD-1071)” প্রকল্পের আওতায় সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক এনহান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (সিপ), ভেল্টহুঙ্গারহিল্ফে (ডব্লিউএইচএইচ)-এর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায়, কাকারা ও কইয়ারবিল ইউনিয়নে মোট ৫০টি কমিউনিটি সচেতনতামূলক সেশন পরিচালনা করছে।
এসব সেশনের উদ্দেশ্য শুধু তথ্য দেওয়া নয়; বরং অংশগ্রহণকারীদের দৈনন্দিন আচরণ, সিদ্ধান্ত ও অভ্যাসে এমন ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা ভবিষ্যৎ দুর্যোগে তাদের আরও নিরাপদ ও প্রস্তুত থাকতে সহায়তা করবে। সেশনগুলোতে বন্যাকালীন নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষা, নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যবিধি, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরে নিরাপদে ফিরে যাওয়া এবং স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা-সংক্রান্ত রেফারেল সেবা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
বন্যা ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ক আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা শিখছেন কীভাবে বন্যার সময় ও পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করতে হবে এবং শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও পরিবারের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সদস্যদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বন্যার পর নিরাপদ পানির সংকট একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তাই নিরাপদ পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক সেশনে পানি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও নিরাপদভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি স্যানিটেশন ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দূষিত পানির কারণে যাতে পরিবারগুলো নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে না পড়ে, সে বিষয়ে ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
একইভাবে, জরুরি পরিস্থিতিতে নারী ও কিশোরীরা মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। সেশনগুলোর মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা অংশে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কীভাবে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মাসিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা যায়, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের জানানো হচ্ছে যে দূষিত পানি, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন এবং অনিরাপদ স্বাস্থ্যবিধি বন্যার পর ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সময়মতো সঠিক অভ্যাস গ্রহণের মাধ্যমে এসব ঝুঁকির বড় অংশই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এই সচেতনতামূলক সেশনগুলোর মাধ্যমে সিপ ও ডব্লিউএইচএইচ বন্যা-আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর কাছে শুধু তথ্য পৌঁছে দিচ্ছে না; বরং পরিবার ও কমিউনিটিকে এমন জ্ঞান ও সক্ষমতায় শক্তিশালী করছে, যা তাদের সচেতনতা থেকে বাস্তব পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে এবং আরও নিরাপদ ও সহনশীল কমিউনিটি গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।
ত/জু






