দেশের উপজেলা পর্যায়ের তরুণ-তরুণীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে “উদ্যোগ” নামের একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি” বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, প্রচলিত অর্থে এটি কোনো প্রতিযোগিতা নয়। এর আওতায় তফসিলি ব্যাংকগুলো নিজ নিজ শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করবে, তাদের ব্যবসায়িক ধারণা যাচাই করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়ন করবে।
নির্বাচিত প্রতিটি উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পাবেন, যার অর্ধেক ব্যাংক ঋণ ও বাকি অর্ধেক অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশ এবং কোনো জামানত লাগবে না। তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থও সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে খেলাপি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখার কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার দেশের বাইরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল খাতে সম্পৃক্ত করা। বর্তমান জনমিতিক সুবিধাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ উচ্চ আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে আরও এগিয়ে যাবে। তবে আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে এই সুবিধা কমে যাবে। তাই এর আগেই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আবেদনের জন্য প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা হতে হবে। আগে থেকে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকলেও চলবে, শুধু বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই আবেদন করা যাবে। কৃষি, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা কিংবা প্রযুক্তি— যেকোনো বৈধ খাতের উদ্যোগই বিবেচনায় আসবে। আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দেওয়া যাবে।
কর্মসূচি সংক্রান্ত বিস্তারিত সার্কুলার আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা হবে, এরপর এক মাস পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ৮টি জেলা- মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণার ৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচিটি শুরু হবে। প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচিত হবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলাতেও কর্মসূচি সম্প্রসারিত হবে, যার মাধ্যমে প্রতি বছর ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন ও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থায়নের পাশাপাশি নির্বাচিত উদ্যোক্তারা প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন ও পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা এবং বাজার সংযোগের সুযোগও পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে ৩ থেকে ৫ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন বিধায় “উদ্যোগ” কর্মসূচি দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয়, চাকরিদাতা হিসেবে গড়ে তোলা। যাদের উদ্ভাবনী ধারণা ও উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হবে। এ উদ্যোগে ব্যাংক ও উন্নয়ন সহযোগীরাও অংশ নেবে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে তরুণদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রবাসী তরুণ শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।






