ইরানের ছোড়া ১৮ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে জর্ডান

ইরান থেকে জর্ডানের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ধ্বংস করার দাবি করেছে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতি থেকে দূরে খোলা এলাকায় গিয়ে পড়েছে।

বুধবার (স্থানীয় সময়) ভোরে জর্ডানের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র এ তথ্য জানান। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা পেত্রার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যেসব এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও ধাতব টুকরো পড়েছে, সেগুলো নিরাপদ করতে বিশেষায়িত দল কাজ করছে। নাগরিকদের সন্দেহজনক কোনো বস্তুতে হাত না দেওয়ার পাশাপাশি এমন কিছু দেখতে পেলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী আরও বলেছে, দেশের নিরাপত্তা ও আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এ জন্য রাডার, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে।

এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, জর্ডানে থাকা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসন’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, এসব ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের আইআরজিসি গত দুই দিনে একটি মার্কিন নৌযানকে দুইবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, মার্কিন নৌযানটি দুই দফা হামলাই এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং এরপরও আঞ্চলিক জলসীমায় টহল অব্যাহত রেখেছে। ওই হামলায় কোনো মার্কিন সেনা বা কর্মকর্তা আহত হননি।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, আইআরজিসির হামলার পর মার্কিন বাহিনী ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করেছে।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দেশের আকাশসীমা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।