ব্রিক্স সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তীব্র ভাষায় আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সমালোচনা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান।
১১ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারেন তিনি। সন্ধ্যায় একটি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে ভারতের ধর্মীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী ও ব্যবসায়ীদের সামনে ভাষণ দেওয়ার সময় আমেরিকা ও ইজ়রায়েলকে কড়া ভাষায় তিনি াুক্ত কথাগুলো বলেন।
ভাষণের শুরুতে ভারতের আতিথেয়তার প্রশংসা করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। মোদীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-সহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
তবে এর পরই সুর বদলে যুদ্ধ প্রসঙ্গে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের কড়া সমালোচনা করেন পেজ়েশকিয়ান। তাঁর অভিযোগ, এই দুই দেশ ইরানকে ভয় দেখিয়ে বশে আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরান কখনও মাথা নত করবে না। পাল্টা চাপের মুখে ইরান জবাব দিতে প্রস্তুত বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
মানবাধিকার প্রশ্নে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের দ্বিচারিতা নিয়েও সরব হন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, নিজেদের মানবাধিকারের প্রবক্তা বলে দাবি করলেও বাস্তবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বহু স্কুলপড়ুয়ার মৃত্যুর জন্য তারাই দায়ী।
সাধারণ মানুষ, বিজ্ঞানী, স্কুল ও হাসপাতালে হামলা চালিয়ে ইরানকে সন্ত্রাসবাদী তকমা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে সাধারণ নাগরিকদের উপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানান পেজ়েশকিয়ান। সেই সঙ্গে জানিয়ে দেন, ইরানের মানুষ আত্মসমর্পণ করবে না, মানবতা ও সব মানুষের সমান অধিকারে তাঁরা বিশ্বাসী।
উল্লেখ্য, ব্রিক্স সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়েরও ১২ সেপোটম্বর দিল্লি পৌঁছোনোর কথা। আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তিন দেশের এই একত্র উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এ দিকে পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মোদী। আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ডাক দিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতার উপর জোর দিয়েছেন তিনি।






