পূর্ব ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর (ডিআরসি) একটি স্কুলে আগুন ও পদপিষ্টের ঘটনায় অন্তত ২৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ। প্রাণ বাঁচাতে উঁচু তলা থেকে লাফ দিতে বাধ্য হয় বহু পড়ুয়া।
বুকাভু শহরে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ (গ্রিনিচ মান সময় ০৭০০) ক্লাস চলাকালীন আগুন লাগে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষক। উজামা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষক সিমোঁ কাসামিরা, যিনি নিজেও চিকিৎসাধীন, এএফপি-কে জানান, ক্লাসের মাঝেই আচমকা ছাত্রছাত্রীদের চিৎকার শুনতে পান তিনি। কেউ কেউ উপরের তলা থেকে লাফ দেয়, কেউ আবার দরজা দিয়ে ছুটে পালানোর চেষ্টা করে। মুহূর্তের মধ্যেই কাঠের তৈরি স্কুল ভবনটি আগুনে গ্রাস করে নেয়।
আগুন লাগার পরই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে কঙ্গোর শিক্ষা মন্ত্রকের পরিদর্শকদের শুক্রবারের রিপোর্ট। পালানোর চেষ্টায় পড়ে গিয়ে অনেকে পদপিষ্ট হয়, আর যারা ভিতরে আটকে পড়ে, তাদের শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, প্রায় ৫০০ মিটার ব্যবধানে তিনটি পৃথক স্থানে একই সঙ্গে আগুন লাগে। ইউনিসেফের হিসেবে এই দুর্ঘটনায় জখম হয়েছে ২৫ জন শিশু।
দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী তথা গুরুত্বপূর্ণ শহর বুকাভু ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রয়েছে রুয়ান্ডা-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এম২৩-এর নিয়ন্ত্রণে, যারা খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ পূর্ব কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের অভিযান জোরদার করেছিল। ঘটনার জেরে শুক্রবার তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে এম২৩। তাদের হিসেবে নিহতদের মধ্যে রয়েছে ২০ জন মেয়ে ও ৬ জন ছেলে, যাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শনিবার হওয়ার কথা।
কিভু হ্রদের তীরে অবস্থিত বুকাভু শহর পরিচিত পাহাড়ি ঢালে গড়ে ওঠা কাঠের বাড়িঘরের জন্য, যেখানে প্রায়ই প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড ঘটে। কিনশাসার প্রশাসন ও এম২৩ উভয় পক্ষই অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংঘাত-বিধ্বস্ত ডিআরসি-তে এই দুর্ঘটনা শোকের ঢেউ তুলেছে, যেখানে অসংখ্য সশস্ত্র গোষ্ঠী এলাকা দখল নিয়ে লড়াই চালাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রক বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, বুকাভুতে সম্প্রতি একের পর এক উদ্বেগজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরই এই দুর্ঘটনা ঘটল। গত অক্টোবরে একই শহরে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কঙ্গোর শহরগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব থাকায় আগুন লাগার ঘটনা সাধারণ ব্যাপার। বাড়িঘরের মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব না থাকা এবং বিদ্যুৎ সংযোগে অবৈধ হস্তক্ষেপই এর প্রধান কারণ বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। গত সপ্তাহেই রাজধানী কিনশাসায় এক বিয়েবাড়িতে আগুনে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। শিক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্ট ও স্থানীয় এক আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের অগ্নিকাণ্ডে শত শত বাড়িঘরও পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।
কঙ্গোর নোবেলজয়ী ডেনিস মুকওয়েগে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা দিতে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, এত শিশুর স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ যে দুর্ঘটনায় চুরমার হয়ে গেল, তা নিছক আরেকটি খবর হয়ে থাকতে পারে না।






